(১) নিম্নবর্ণিত পরিস্থিতে ক্রয়কারী সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া ক্রয়কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) যেসকল ক্ষেত্রে পণ্য, কার্য, ও ভৌতসেবা তাহাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে কেবল সীমিতসংখ্যক যোগ্যতাসম্পন্ন সম্ভাব্য ইকনোমিক অপারেটরের নিকট হইতে প্রাপ্তিসাধ্য (যথা—বিমান, রেল ইঞ্জিন, বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জাম, গর্ভনিরোধক সামগ্রী, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামাদি, খাদ্যগুদাম, বন্দর, পোতাশ্রয়, ইত্যাদি); বা
(খ) জরুরি প্রয়োজনে পণ্য, কার্য, বা ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত অভ্যন্তরীণ অথবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া গ্রহণ বাস্তবসম্মত নহে বলিয়া প্রতীয়মান হইলে:
তবে শর্ত থাকে যে, যে পরিস্থিতির কারণে বর্ণিত জরুরি অবস্থার উদ্ভব হইয়াছে, ক্রয়কারী কর্তৃক উহার পূর্বানুমান করা সম্ভব ছিল না অথবা ক্রয়কারীর দীর্ঘসূত্রতার কারণেও উহা সূচিত হয় নাই; বা
(গ) যেসকল ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়হ্রাস এবং খুচরা যন্ত্রাংশের মজুত সীমিতকরণের লক্ষ্যে সরকার নির্দিষ্ট কতিপয় ব্র্যান্ডের (যথা—কম্পিউটার, গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি, গবেষণার যন্ত্রপাতি, ইত্যাদি) প্রমিতীকরণসংক্রান্ত নীতিমালা প্রবর্তন করিয়াছে; বা
(ঘ) তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমা সাপেক্ষে, তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী, ঠিকাদার বা সেবাপ্রদানকারীর এর নিকট পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবা ক্রয়ের নিমিত্ত দরপত্র আহ্বান করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালার অন্যান্য বিধিতে যাহাই কিছুই বর্ণিত হউক না কেনো, টেকসই সরকারি ক্রয়ের সামাজিক উপাদানের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকল্পে একজন ক্রয়কারী পরিচালন খাতে তাহার বার্ষিক বাজেটের তফসিল-২-এ বর্ণিত পরিমাণের বিপরীতে, বিশেষায়িত ক্রয়ের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে, ক্রয় কার্যক্রম কেবল অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান (Micro and small enterprise), নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (Women-owned enterprise) এবং নূতন প্রতিষ্ঠানের (New enterprise) মধ্যে সীমিত রাখিবে এবং সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী কর্তৃক সম্ভাব্য দরদাতাগণের তালিকাভুক্তিকালে সামাজিক ক্রয় ক্যাটেগরি শিরোনামে পৃথক তালিকা সংরক্ষণ করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, সামাজিক সুরক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়ন সম্পর্কিত উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ক্রয়কারী সার্বিক ক্রয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তিকরণ সাপেক্ষে সামাজিক ক্রয় ক্যাটেগরির মাধ্যমে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ করিতে পারিবে; বা (ঙ) দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারের লক্ষ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯/৩১শে ভাদ্র, ১৩১৬ তারিখে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত শিল্প/স্বস-৩/পার-১১/৮৮/২৫৫ নং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কর্পোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান/কারখানা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে সাব-কন্ট্রাকটিং ব্যবস্থাধীনের মাধ্যমে লিংকেজ স্থাপনপূর্বক ধাতব, প্লাস্টিক, চীনামাটি প্রভৃতি হইতে প্রস্তুত যন্ত্রপাতি/যন্ত্রাংশ সংগ্রহের জন্য প্রণীত বিধিমালা ও জাতীয় শিল্পনীতি, ২০১০-এর নীতি ১৫.৪ এর (খ)-এর আলোকে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ বা যন্ত্রপাতির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে।
(২) সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধীনে উপবিধি (১)-এর দফা (ক), (খ), (গ) ও (ঙ)-তে বর্ণিত ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো মূল্যসীমা প্রযোজ্য হইবে না এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদার বা সেবাপ্রদানকারীকে দরপত্র দাখিলের জন্য আহ্বান জানাইতে হইবে এবং দফা (ঘ)-এর অধীন অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো দরপত্রদাতা কর্তৃক দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য হইতে তফসিল ২-এ বর্ণিত শতকরা হারের অধিক কম বা অধিক বেশি দর উদ্ধৃত করা হইলে উক্ত দরপত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
উদাহরণ।— সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ কোনো কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র দলিলে প্রাক্কলিত মূল্য ১০০.০০ লক্ষ টাকা উল্লেখ করা হইলে, কোনো দরদাতা °৫% বা ৯৫.০০ লক্ষ টাকা হইতে ১০৫.০০ লক্ষ টাকা দরে দরপত্র দাখিল করিতে পারিবে। তবে দরদাতা ৯৫.০০ লক্ষ টাকা কম বা ১০৫.০০ লক্ষ টাকার বেশি দরে দরপত্র দাখিল করিলে তাহার দরপত্র বাতিল হইয়া যাইবে।
(৩) মূল্যায়িত সর্বনিম্ন দর যদি উপবিধি ১ এর দফা (ঘ) এ বর্ণিত মূল্যসীমার অধিক হয়, তাহা হইলে পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উক্ত ক্ষেত্রে চুক্তিসম্পাদনের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৪) সীমিত দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৫) বর্ণিত পদ্ধতির অধীন কার্যসম্পাদন জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক হইবে না, তবে দরপত্র জামানত এবং চুক্তির বিপরীতে অনুমিত রক্ষণযোগ্য অর্থকর্তনের বিষয়ে এই বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধিসমূহে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিতে হইবে।